পর্দা নিয়ে কিছু কথা

in instablurt •  3 days ago 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বিষয়: পর্দা সম্পর্কে

মেয়েরা বাইরে যেতে হলে সৌন্দর্য লুকিয়ে যাবে ।নারীকে সব ধরনের অপমান থেকে রক্ষা করে ইজ্জত এর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করাই লক্ষ্য মহান আল্লাহ পাক পবিত্র বিধান জারি করেছেন ।
প্রাক ইসলামী যুগে নারীরা ছিল সীমাহীন লাঞ্ছিত ।

অপমানিত কচু পাতার পানি। তখন নারীরা শুধু পুরুষের ভোগের বস্তু ছাড়া আর কিছুই ছিল না ।নারীরা এতটাই অবহেলা ও অপছন্দের বস্তু ছিল যে, কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে পিতৃত্বের অপমান করে তাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হতো। নারীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন অনিশ্চয়তা বর্বরতার স্টিমরোলার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ।

ঠিক তখনই ইসলাম এসে নারীজাতিকে অধঃপতনের অতল গহবর থেকে ট্রেনে তুলে সম্মানের আসনে সমাসীন করেছে। নিশ্চিত করেছে নারীর স্বাধীনতা ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। সত্য বলতে কি পর্দা লঙ্ঘন করে সংযত জীবন ছেড়ে সমাজে সমাজের হাওয়া বাতাস গায়ে লাগাতে ব্যস্ত ।যে সব নারী এপ্রিল থেকে শুরু করে নানা রকম হয়রানি তাদের ভাগ্যেই জোটে ।

তাদের চলাফেরায় স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটায়। উঠতি বয়সের তরুণ-যুবকদের কাছে নারী চিরকালই চুম্বকের মত আকর্ষণ শক্তি ।সাগরের গুপ্তধন সেই নারী যখন সকল প্রকার গোপনীয়তা উন্মোচন করে একজন পুরুষের সামনে আপন রূপে ঝলসে ওঠে। তখন স্বাভাবিকভাবেই পুরুষ সহজাত প্রবৃত্তি থাকার কথা নয় তাই তখন সেই নারীকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্খায় ধর্ম নিয়ম হয়ে ওঠে পুরুষের আপন সত্ত্বা ।

সেই ভাবা যখন সম্ভব হয়ে উঠে না তখনই মনের খাতাতে পুরুষ ইভটিজিং ও দর্শনের পথ বেছে নেয় ।ইভটিজিং ও ধর্ষণ প্রতিরোধে পর্দার বিকল্প কিছু নেই। পর্দার বিধান চালনা করে এবং ছেলেমেয়েদের নৈতিক আদর্শ শিক্ষা না দিয়ে ইভটিজিং দর্শন প্রতিরোধের চেষ্টা করা এমন ।যেমন আগুনের মধ্যে কেরোসিন পেট্রোল ঢেলে তা নেভানোর চেষ্টা করা ।তাইতো দেখা যায় স্কুল কলেজের ছাত্রীরা যখন ইভটিজিং প্রতিরোধের দাবিতে পর্দার বিধান লংঘন করে সেজে গুজে রাস্তায় নামে মানববন্ধন করে মিছিল করে তখন ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে এসে তারা টিজিংয়ের শিকার হয় ।

যে নারীরা ফ্রি মাইন্ডের চলাফেরা করেন তারা কেউই সুখের ঠিকানা পায়নি ।এবং না বদলালে পাবে না ।নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হয় বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বয় ফ্রেন্ড বেস্ট ফ্রেন্ড যৌন হয়রানির ।জাস্ট ফ্রেন্ড ক্লাসমেট শিক্ষক ও সহকর্মীরা যৌন হয়রানির শিকার হয় কিন্তু সবাই তা প্রকাশ করে না কেউ মান-সম্মানের ভয়ে।

শুধু হিজাব বোরকা পূর্ণাঙ্গ পর্দা হতে পারে না।নারী-পুরুষ উভয়ের পরিপূর্ণ পর্দা রক্ষা করে চলে কোন প্রকার দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে না ।যদি দুর্ঘটনা কখনো ঘটেই থাকে তাহলে নিছক দুর্ঘটনা হয় ।সেখানে কেবল নামের নামে পর্দা করা হয়েছে। পর্দার বিধান যথাযথ পালন করা হয়নি ।কখনো বোরকা বা হিজাব পড়া মেয়ের যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা পত্রিকায় আসে তখন কেউ বলে বোরকা পরে পর্দা পড়ে কি লাভ হলো।

প্রথম কথা হলো পর্দা আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ। পর্দা নিয়ে কোনো কথা হবেনা লাভ-ক্ষতির হিসাব হবে না বুঝে আসুক বা না আসুক। পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে। কথা হলো বোরকা বা হিজাব পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং একটি মাধ্যম মাত্র বোরকা বা হিজাব পড়লে পরিপূর্ণ পর্দা রক্ষা করেছে একথা বলা যাবে না। বোরকা পড়ার মূল উদ্দেশ্যই সৌন্দর্য ঢেকে রাখা যদি এমন বোরকা পরা হয় যে বোরকা নারীর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয় এবং পুরুষকে আকৃষ্ট করে তাহলে সেই বোরকা পরা আর না করা সমান ।

এ ছাড়া কোন মেয়ে বোরকা হিজাব পড়ে যেখানে সেখানে কিংবা বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে গেলে তাকে পর্দাশীল মেয়ে বলা যায় না। তৃতীয় কথা হলো শুধু নারীর পর্দা করার ধারা যৌন হয়রানি বন্ধ হয়না। হয়তো কিছুটা কমে যায় ।পুরুষের পর্দা রক্ষা করা জরুরি কেননা পর্দা নর-নারী সকলের উপর ফরজ ।যদি নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণীর পূর্ণাঙ্গ পর্দা রক্ষা করে চলে তবে তার সুফল পাওয়া যাবে । আবারো বলছি অশ্লীলতা ও ব্যভিচার থেকে মুক্ত থাকার লক্ষ্যে নারী পুরুষ তাদের নিজ নিজ রূপ লাবণ্য সূর্যকে আড়াল রাখা এবং নিজ নিজ মন ও আত্মা দৃষ্টি ও নজর গান ও জবানকে হেফাজত করা ।সুতরাং এর একটি মিসিং হলে পর্দা রক্ষা হবে না।

পর্দা অবরোধ নয় ।কোন জিনিসকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখার দ্বারা সেই জিনিসের মানহানি হয় না। সেটাকে বলা হয় না দেশের রাষ্ট্রপ্রধান প্রধানমন্ত্রী কি আপনার আমার মত একা একা চলাফেরা করেন না সাথে বডিগার্ড বডিগার্ড থাকে তাকে সবসময় পাহারা দিয়ে রাখে। কেন দেয়া হয় তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাই তার নিরাপত্তার জন্য বডিগার্ড দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকে মানহানি এবং অবরোধ করেন।

হীরা পাওয়া যায় মাটির অনেক গভীরে। সাগরের তলদেশে ঝিনুকের ভেতর লুকিয়ে থাকে। সোনার খনি মাটির নিচে থাকে হিরা মনি মুক্তা সোনা ।এগুলোর মূল্য এত বেশি কেন জানেন কারণ এগুলো সহজে পাওয়া যায় না মাটির নিচে সমুদ্রের গভীরে লুকানো থাকে অনেক কষ্ট করে হাসিল করতে হয়। এগুলোর মূল্য অনেক বেশি বিদায় লুকিয়ে রাখতে হয় ।নিরাপত্তার জন্যই তালাবদ্ধ রাখতে হয় ।কেননা যে জিনিস যত বেশি মূল্যবান জিনিস ততবেশি গোপন রাখতে হয় ।

প্রিয় বন্ধুরা আল্লাহপাক যা কিছু মূল্যবান করে সৃষ্টি করেছেন তা গোপন স্থানে সংরক্ষণ করেছেন ।যেমন হিরা মনি মুক্তা সোনা আল্লাহ তা'আলার নিকট। এই হিরা মনি মুক্তা সোনার চেয়েও নারী দেহ অনেক মূল্যবান অনেক বেশি সম্মান ।প্রকৃতপক্ষে নারীদের সাথে এসব বস্তুর কোন তুলনাই চলে না।

হিরা মনি মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান বস্তু এত নিরাপত্তা বেষ্টনীর আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয় ।সেখানে এগুলোর চেয়ে হাজার গুন বেশি মূল্যবান নারীকে কি পরিমান নিরাপত্তা বেষ্টনী প পর্দার আড়ালে থাকা প্রয়োজন। তা সহজেই অনুমান করা যায় ।পর্দার আড়ালে থাকা এবং বোরকা পরা নারীর জন্য অবরোধ এবং মানহানি নয় ।যারা পর তাকে অবরুদ্ধ প্রগতির অন্তরায় বলে তারা আল্লাহর দুশমন আল্লাহর রাসূলের দুশমন।

এখানেই শেষ করছি। আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
হিজাব.jpg

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE BLURT!